Showing posts with label কুশিয়ারা নিউজ. Show all posts
Showing posts with label কুশিয়ারা নিউজ. Show all posts

Sunday, 23 March 2025

সিলেটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার

সিলেটে ধানক্ষেত থেকে যুবকের লাশ উদ্ধার


সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলায় ধান ক্ষেত থেকে মাখন মিয়া  (৩৫) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ওসমানীনগর থানা পুলিশ।

২২ মার্চ (শনিবার) সকাল সাড়ে ১২ টায় উপজেলার আইলাকান্দি গ্রামের বাড়ীর পাশে ধানক্ষেতে শরীরে জখম ও রক্তমাখা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

মাখন মিয়ার বর্তমান ঠিকানা তাজপুর ইউনিয়নের আইলাকান্দি গ্রামে হলেও স্থায়ী ঠিকানা একই উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের মৃত মফিজ মিয়ার ছেলে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ শে মার্চ  রাত ১১ টার সময় প্রয়োজনীয় কাজে মাখন মিয়া বাড়ী হতে বেড় হন। রাতভর বাড়ীতে না আসায় তার  স্ত্রী রেনু বেগম আত্মীয়স্বজনকে বিষয়টি অবগত করেন। সকালবেলা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে দুপুরে বাড়িরপাশে ধানক্ষেতে জুতা এবং রক্ত দেখে মামাতো ভাই ফটিক মিয়ার সন্দেহ হলে পাশেই ধানক্ষেতে  মাখন মিয়াকে খুজেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি ধান ক্ষেতে রাতের আধারে কে বা কারা হত্যা করে মাখন মিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখে  দ্রুত  পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর) সার্কেল মো. আশরাফুজ্জামান, অফিসার্স ইনচার্য (ওসি) মো.মোনায়েম মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। উদ্ধারকৃত লাশটির শরীরের বিভিন্ন জায়গায় দাঁড়ালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 
গোলাপগঞ্জে ট্রাক চাপায় যুবকের মৃত্যু

গোলাপগঞ্জে ট্রাক চাপায় যুবকের মৃত্যু


সিলেটের গোলাপগঞ্জে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত যুবকের নাম মামুন আহমদ (২৪)। সে উপজেলার ফুলবাড়ি ইউপির সিংপুর পাঁচামাইল গ্রামের মাহবুবুর রহমান টেফন মিয়ার  ছেলে।

শনিবার ( ২২ মার্চ) বিকেলে উপজেলার হেতিমগঞ্জ চৌমুহনীর অদূরে রফিপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, মামুন আহমদ নিজ বাড়ি থেকে উপজেলার হেতিমগঞ্জ বাজারে মোটরসাইকেলে আসার পথে ফুলবাড়ি ইউনিয়নের রফিপুর এলাকার নয়া মসজিদের পাশে আশা মাত্র বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত ট্রাক মামুন আহমদকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে তাকে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার অবস্থা অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেটের বেসরকারি হাসপাতাল ইবনে সিনায় নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মামুন আহমদের মৃত ঘোষণা করেন।

গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মোল্যা বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘাতক ট্রাক চালককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

Saturday, 22 March 2025

রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের এখতিয়ার’ সেনাবাহিনীর নেই: নাহিদ ইসলাম

রাজনীতিতে ‘হস্তক্ষেপের এখতিয়ার’ সেনাবাহিনীর নেই: নাহিদ ইসলাম


রাজনীতি নিয়ে কোনো ‘প্রস্তাব বা সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার’ সেনাবাহিনী কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

শুক্রবার রাতে দলের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বলেন, "নির্বাচন ও আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার, জনগণ ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোরই এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

“সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব দেওয়ার এখতিয়ার নেই। এ ধরনের চর্চা যেন বাংলাদেশে না হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবেই হবে এবং সামনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আমরা উত্তরণ করতে চাচ্ছি।"

শুক্রবার রাতে বাংলা মোটর রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির প্রধান কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকে দলটি।

আওয়ামী লীগের 'পরিশীলিত' নেতাদের নিয়ে নতুন করে দলটি গোছানোর জন্য দেশ ও দেশের বাইরে থেকে প্রচেষ্টা চলছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে। এ নিয়ে সোচ্চার হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের এই অংশটি।

সংবাদ সম্মেলনে এনসপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আজ থেকে সাত মাস আগে ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে।

“কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। বিদেশি শক্তিগুলো অনেক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদনের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নিয়ে এসব দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করছে।”

লিখিত বক্তব্যে নাহিদ বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

"আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আমরা তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম-ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।"


তিনি বলেন, "এনসিপি মনে করে বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ছাড়া আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল।

“এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালীন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এ মাফিয়াগোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করবে।”

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি রাজনৈতিক দল কেন নিষিদ্ধ থাকবে, সেই প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, "আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল। নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পরাজয় ঘটেনি।

“দল হিসাবে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী রেজিম বাংলাদেশ থেকে উৎখাত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করছে।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া নাহিদ বলেন, “ বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার যেকোনো ধরনের আলোচনা ও প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী মতাদর্শ, দল ও মার্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ৩৬ জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

“ফলে দল ও মতাদর্শ হিসাবে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশে রাজনীতি করার অধিকার হারিয়েছে। গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদের সব সহযোগী ব্যক্তি ও সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।" 

ক্যান্টনমেন্টে কী ঘটেছিল?

এনপিপির সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, "গত ৫ অগাস্টের পর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সময় দেখা-সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু ১১ মার্চের সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আমাদেরকে সেখানে আহ্বান জানান হয়েছিল। অপর প্রান্তে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছিলেন।”

সেনা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে, তা ফেইসবুকেই স্পষ্ট করা হয়েছে উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, "এটা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বলে আমরা মনে করছি। রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ রাজনীতিবিদদের হাতে থাকা উচিত।

“কিছু দিন আগে সেনাপ্রধানের একটা বক্তব্য আপনার লক্ষ্য করেছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এটাকে অশোভন হিসেবে ধরা হয়েছে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে যেভাবে এড্রেস করা হয়েছে, আওয়ামী লীগসহ ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।”

নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছেন কিনা, এমন প্রশ্নে হাসনাত বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যতক্ষণ ঐক্যবদ্ধ, ততক্ষণ নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি অনুভব করছি না।

“আওয়ামী লীগ যে একটা গণহত্যা চালাইছে, সে এটাই স্বীকার করে নাই। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা নেই। সেজন্য আমরা বলছি, আগে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধ স্বীকার করতে হবে, তারপর অন্য কোনো আলোচনা হইলে হইতে পারে। এর আগে আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা অসম্ভব, ইম্পসিবল।"

একাত্তর প্রসঙ্গ

এনসিপি ২০২৪ সালের পাশাপাশি ১৯৭১ সালের গণহত্যার বিচার নিয়ে কী ভাবছে- এমন প্রশ্নে নাহিদ বলেন, "আমরা জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে অনেক বেশি কনসার্ন। কারণ একাত্তরের গণহত্যার বিচার নিয়ে এখনও অনেক প্রশ্ন আসছে। সেটা আমাদের পুরাতন প্রজন্মের দায়।

“আমরা একাত্তরের পরে একাত্তরে সংগঠিত গণহত্যার বিচার নিষ্পন্ন করতে পারি নাই। রাজনৈতিক প্রশ্নগুলোর সমাধান করতে পারিনি। এরকম পরিস্থিতির যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেজন্য আমরা আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে খুবই কঠোর অবস্থানে। এবং এই বিচারটা আমরা নিষ্পন্ন দেখতে চাই। ৭১ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে যত গণহত্যা হয়েছে, সব বিচারই আমরা চাই। তবে রাজনৈতিকভাবে এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হচ্ছে আওয়ামী লীগ।"

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দলটিকে নিষিদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি তোলা হয়।

গত অক্টোবরে আওয়ামী লীগের ওপর ‘নিষেধাজ্ঞা চেয়ে’ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তখনকার সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ রিট আবেদন করেছেন বলে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে।

পরে এ বিষয়ে একই বক্তব্য আলাদাভাবে ফেইসবুকে পোস্ট করে তারা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা আদেশ চেয়ে রিট আবেদন করা হয়নি। তারা দুটো রিট আবেদন করেছেন আওয়ামী লীগের বিগত তিনটি নির্বাচনকে অবৈধ ঘোষণার আর্জি জানিয়ে। সেখানে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়নি, মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলটিকে ‘রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার’ কথা বলা হয়েছে।

এর মধ্যে সবশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে হাসনাতের দেওয়া ফেইসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের ‘দাবি’।

ফেইসবুক পোস্টে হাসনাত অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে সেনা প্রশাসন তাদের ‘চাপ দিচ্ছে’।

তার এ দাবির বিষয়ে অবশ্য সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হাসনাতের পোস্টের পর শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানও আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন।

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এদিন এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ পুরনো দল, এখন সেই দলের যারা অপরাধী, অপরাধের বিচার হলে তারপরে তারা জনগণের কাছে গিয়ে, জনগণ যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয় সেখানে তো আমাদের কিছু বলার নেই।”
হাসনাত ও আসিফের বক্তব্যে রাজনীতিতে উত্তাপ

হাসনাত ও আসিফের বক্তব্যে রাজনীতিতে উত্তাপ


সেনাবাহিনী বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ এনেছেন, তা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বোমা ফাটিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদও। তার দাবি, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হোক, ‘তা চাননি’ সেনাপ্রধান।

তাদের এমন বক্তব্যের মধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়; সড়কে সেনাবাহিনীর অবস্থান দেখা গেছে অন্য দিনের তুলনায় বেশি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে একটি ঝটিকা মিছিল করেছে ‘ছাত্রলীগ’।


আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান প্রকাশ না করে বিএনপি বলছে, ক্ষমতাচ্যুত দলটির রাজনীতিতে ফেরার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ‘জনগণ’।

অন্যদিকে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন জনগণ ‘মেনে নেবে না’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান।

তিনি বলেছেন, “জনগণ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গণহত্যার বিচারটাই দেখতে চায়। এর বাইরে অন্য কিছু ভাবার কোনো সুযোগ নেই।


“আমরা সর্বস্তরের জনগণকে সংযত, সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থেকে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানাই।”

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম দলের নেতা হাসনাতের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেছেন, রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে প্রস্তাব বা হস্তক্ষেপের এখতিয়ার সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের নেই। এ ধরনের চর্চা যাতে বাংলাদেশে আর না হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগের মত রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম চালানোর অধিকারের বিষয়টি ‘জনগণের রায়ের’ ওপর ছেড়ে দিতে হবে। আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে কোনো দলকে নিষিদ্ধ করা ‘ভালো বার্তা বহন করে না’।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মানুষের কাছে কোন দল রাজনৈতিক দল হিসেবে টিকে থাকবে কিনা সেটা মানুষ তার গণতান্ত্রিক মতামতের যে প্রক্রিয়া, সেটি সুষ্ঠুভাবে হলে জানান দিতে পারে, কোন দলকে সে চায়, কোন দলকে চায় না।

“গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামতের ওপর নির্ভর করতে হয়। আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে সেটা করাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো বার্তা বহন করে না।”

হাসনাতের বক্তব্যের বিষয়ে জোবাইদা নাসরীন বলেন, “ফেইসবুক পোস্ট নিয়ে মন্তব্য দেওয়া কঠিন। গতকাল ও আজকের- দুদিনের রাজনৈতিক প্রবাহ অনেক বেশি ভিন্নতা ও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে হাসনাত আব্দুল্লাহর পোস্ট বক্তব্য ও পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা মিছিল হয়েছে গণমাধ্যমে জেনেছি।”

তবে বিষয়টি নিয়ে সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো পাওয়া যায়নি।

আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন হঠাৎ কেন আলোচনায় 

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) প্রেসিডেন্ট ও সিইও কমফোর্ট ইরোর সঙ্গে আলোচনায় আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধে অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো পরিকল্পনা না থাকার কথা তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।

তবে দলটির যেসব নেতার বিরুদ্ধে হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে, তাদের বাংলাদেশের আদালতে বিচারের আওতায় আনার কথা বলেছেন তিনি।

তার ওই বক্তব্যের পর রাতে ফেইসবুক পোস্টে সেনানিবাস থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনে ‘চাপ দেওয়ার’ অভিযোগ তোলেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় তিনিসহ তিনজনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে’ রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।

ওই বৈঠকে ‘৪০ বছরের বেশি সময়’ সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ও বচসা হওয়ার কথা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ না করেই তাদের চলে আসতে হয়েছে।

হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়–ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে–তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”

ইউনূসের বক্তব্য এবং হাসনাতের ফেইসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে শুক্রবার গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে।

শুক্রবারও একই দাবিতে পৃথক বিক্ষোভ মিছিল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটি বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণ মঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্মের ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।

এক মাসের বেশি সময় ধরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দলটির সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান।

ওই আন্দোলনের মধ্যে ১৪ শ মানুষ নিহত এবং কয়েক হাজার মানুষ আহত হওয়ার তথ্য উঠে এসেছে জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে। সেসব ঘটনায় হামলার জন্য শেখ হাসিনাকে দায়ী করে তার সরকারের মন্ত্রী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হচ্ছে।

জুলাইয়ের সেসব নিহতের ঘটনাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার করার উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

অপরদিকে আন্দোলন দমনে ভূমিকার জন্য আওয়ামী লীগকে অনেকে এখন ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ আখ্যায়িত করে নিষিদ্ধের দাবি তুলেছেন। সরকার পতন আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির নেতারাও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পক্ষে।

এরইমধ্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও দলটির নিবন্ধন বাতিল চেয়ে গত ১৯ অগাস্ট হাই কোর্টে রিট আবেদন হয়েছে এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগকে। অবশ্য, রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন না পাওয়ার প্রেক্ষাপটে ওই রিট আবেদন থেকে সরে আসেন হাসনাতরা।

এদিকে, রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে শুক্রবার রাতে একটি ঝটিকা মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের একদল নেতাকর্মী। মিছিল থেকে তিনজনকে আটকের কথা বলেছে পুলিশ।

কী বলেছেন আসিফ মাহমুদ

হাসনাতের বক্তব্য নিয়ে উত্তাপের মধ্যে এক ভিডিওবার্তায় অভ্যুত্থানের আরেক ছাত্রনেতা, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা হন, ‘তা চাননি’ সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু ছাত্রনেতাদের অনড় অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত মেনে নেন।

৬ অগাস্ট বঙ্গভবনে ওই বৈঠকের ঘটনাক্রম তুলে ধরে তিনি বলেন, “সেনাপ্রধানের দিক থেকে মূল ভেটোটা (আপত্তি) ছিল ড. মুহাম্মদ ইউনূস কেন? হোয়াই নট এনি আদার পারসন (অন্য কেউ কেন নয়)? ড. ইউনূসের নামে মামলা আছে। তিনি একজন কনভিকটেড পারসন (দণ্ডিত ব্যক্তি)। একজন কনভিকটেড পারসন কীভাবে আসলে একটা দেশের প্রধান উপদেষ্টা হতে পারে?

“উনি সরাসরি বলেছেন যে, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারটাকেতো সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হতে হবে, আওয়ামী লীগতো ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে দুচক্ষে দেখতে পারে না, একদম অপছন্দ করে। তো, আওয়ামী লীগ একটা লোককে একেবারে দেখতে পারছে না, বাংলাদেশেতো আলটিমেটলি ৩০-৪০ শতাংশ মানুষতো আওয়ামী লীগকে সাপোর্ট করে। এই ৩০-৪০ শতাংশ মানুষের মতামতের বিরুদ্ধে গিয়ে একটা লোককে প্রধান উপদেষ্টা করা উচিত’?”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “সেনাপ্রধান লাস্ট, আমার মনে পড়ে আমাদের বলেছিলেন, ‘আমি বুকে পাথর চাপা দিয়ে এই সিদ্ধান্তটা মেনে নিচ্ছি’।”

কী লিখেছেন হাসনাত

সেনানিবাস থেকে আসা প্রস্তাবের বিষয়ে হাসনাত তার পোস্টে লিখেছেন, “আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদেরকে বলা হয়–ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে–তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

“একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।”

হাসনাত লিখেছেন, “রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।

“আমাদেরকে আরো বলা হয়–রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।”

সেনা কর্মকর্তাদের এমন প্রস্তাবের বিরোধিতার কারণে বৈঠকে ছাত্রনেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের বচসা হয় বলে ফেইসবুকে পোস্টে দাবি করেছেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

তিনি লিখেছেন, “আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন। এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।

“আলোচনার এক পর্যায় বলি–যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন! অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর অ্যাটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে না’।

“উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে। পরে- মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।”

এরপর শুক্রবার রাতে এনসিপির ডাকা জরুরি সংবাদ সম্মেলনেও ফেইসবুক পোস্টে লেখা ঘটনার একটি বর্ণনা দেন হাসনাত আব্দুল্লাহ।

নতুন দলের এই মুখ্য সংগঠক বলেন, "গত ৫ অগাস্টের পর সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের বিভিন্ন সময় দেখা সাক্ষাৎ হয়েছে। কিন্তু ১১ মার্চের সাক্ষাতের প্রেক্ষাপট ভিন্ন ছিল। আমাদেরকে সেখানে আহ্বান জানান হয়েছিল। অপর প্রান্তে ঊর্ধ্বতন ও কর্মকর্তারা ছিলেন।

সেনা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলাপ হয়েছে তা ফেইসবুকেই ‘স্পষ্ট করা হয়েছে’ মন্তব্য করে হাসনাত বলেন, "এটা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা বলে আমরা মনে করছি। রাজনীতির ঘটনা প্রবাহ রাজনীতিবিদদের হাতে থাকা উচিত।”

তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে সেনাপ্রধানের একটা বক্তব্য আপনার লক্ষ্য করেছেন। রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এটাকে অশোভন হিসেবে ধরা হয়েছে। সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানকে যেভাবে অ্যাড্রেস করা হয়েছে, আওয়ামী লীগসহ ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে।”

এই ঘটনার পর নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছেন কিনা– এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত বলেন, "ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যতক্ষণ ঐক্যবদ্ধ, ততক্ষণ নিরাপত্তার কোনো ঝুঁকি অনুভব করছি না।

"আওয়ামী লীগ যে একটা গণহত্যা চালাইছে, সে এটাই স্বীকার করে নাই। তার মধ্যে কোনো অনুশোচনা বোধ নেই। সেজন্য আমরা বলছি আগে তার বিচার নিশ্চিত করতে হবে, দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, অপরাধ স্বীকার করতে হবে, তারপর অন্য কোনো আলোচনা হইলে হইতে পারে। এর আগে আওয়ামী লীগের সাথে কোনো ধরনের আলোচনা অসম্ভব, ইম্পসিবল," বলেন হাসনাত।

রাজনীতিক ও বিশ্লেষকদের ভাষ্য

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফিরতে পারবে কিনা, তা চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে চালানো হত্যাযজ্ঞের বিচারের পরে নির্ধারণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, “অনেক কথা উঠছে আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারবে কি পারবে না। যারা গণহত্যা চালালো তাদের বিচার হবে কিনা? কারা চালিয়েছে এটা কি মানুষ দেখেনি? কোন পুলিশ, কোন ওসি, কোন এসপি, কোন ডিসি এখানে ভূমিকা রেখেছে। কার নির্দেশে কার বলায় এই গণআন্দোলনে রক্ত ঘটানোর জন্য, এই গণআন্দোলন ধ্বংস করার জন্য, দমন করার জন্য কার নির্দেশ, আওয়ামী লীগের কোন নেতাদের নির্দেশ রয়েছে।

“আপনারা (সরকার) এদের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করতে পারলে…আওয়ামী লীগ পুরনো দল, এখন সেই দলের যারা অপরাধী, অপরাধের বিচার হলে তারপরে তারা জনগণের কাছে গিয়ে, জনগণ যদি তাদের রাজনীতি করার সুযোগ দেয় সেখানে তো আমাদের কিছু বলার নেই।”

শুক্রবার রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, "নির্বাচন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। সরকার, জনগণ ও বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার রয়েছে।

“সেখানে সেনাবাহিনী বা রাষ্ট্রীয় কোন প্রতিষ্ঠানের এই বিষয়ে কোন মন্তব্য বা পরিকল্পনা, সিদ্ধান্ত বা প্রস্তাব দেওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। এই ধরনের চর্চা যাতে বাংলাদেশে না হয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিকভাবেই হবে এবং সামনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতেই আমরা উত্তরণ করতে চাচ্ছি।"

সংবাদ সম্মেলনে এনসপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, আজ থেকে সাত মাস আগে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে আওয়ামী লীগকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করেছিল। আমাদের আশা ছিল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টার ক্লোজ হয়ে গেছে।

“কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায় থেকে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে। বিদেশি শক্তিগুলো অনেক সময় আওয়ামী লীগের পক্ষে সম্মতি উৎপাদনের চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ নিয়ে এসব দেশি বিদেশি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টি শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করছে।”

ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার থেকে পদত্যাগ করে রাজনীতিতে নামা এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।

"আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। আমরা তার বক্তব্যের নিন্দা জানাই। আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম-ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।"

তিনি বলেন, এনসিপি মনে করে, বিচারিক কার্যক্রমের পরিণতি দৃশ্যমান হতে হবে। কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যে কোনো ধরনের তৎপরতা ‘ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল’।

“এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী রেজিমে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালীন সময়ে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এই মাফিয়াগোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরার যেকোনো প্রচেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করবে।”

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি রাজনৈতিক দল কেন নিষিদ্ধ থাকবে–সেই প্রশ্নের উত্তরে নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল। নানা অপরাধের বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার যে কোনো ধরনের আলোচনা ও প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়তার সাথে প্রত্যাখ্যান করে।”

কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে ‘না থাকার’ কথা তুলে ধরে রাজনৈতিক বিশ্লেষক জোবাইদা নাসরীন বলেন, “আওয়ামী লীগ দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল। এর আগে নিপীড়নের বিষয়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে। এর চেয়ে বড় নিপীড়নের অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে আছে, সেটাও দাবি মধ্যে আছে। আসলে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই।”

দেশে কোনো দল দেশে টিকে থাকবে কি, থাকবে না তা বাংলাদেশের মানুষ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় মতামতের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেন এ অধ্যাপক।

“আইন করে বা চাপিয়ে দিয়ে সেটা করাটা বাংলাদেশের রাজনীতিতে ভালো বার্তা বহন করে না। রাজনৈতিক দলের ভিত্তি থাকে, জনগণের কাছে রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ, কতটা আস্থা বহন করছে। সেক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ যদি জনগণের কাছে আস্থাভাজন না হয়, জনগণ যদি তাদেরকে বাতিল করে দেয়-সেটিই হবে গুরুত্বপূর্ণ।”

তার ভাষায়, একটি রাজনৈতিক দল কতটুকু জনবান্ধব, জনমুখী সেটা নির্বাচনের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়।

বেড়েছে তল্লাশি

সরকারি চাকরির কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চলার মধ্যে ছাত্রলীগ ছেড়ে আসা সাবেক ছাত্রনেতা হাসনাতের দাবির বিষয়ে সেনা সদর কিংবা আইএসপিআরের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর চলমান অভিযানের মধ্যেই ঢাকায় সেনা সদস্যদের তৎপরতা বেড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে বাড়তি টহলের পাশাপাশি তল্লাশি চৌকি বসিয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর- আইএসপিআরের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী অবশ্য বলছেন, এই তৎপরতা সেনা সদস্যদের ‘নিয়মিত কার্যক্রমেরই অংশ।’

“এটি সেনা সদস্যদের পার্ট অব ডিউটি, বাড়তি টহল বা চেকপোস্ট বলে কিছু নেই। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সেনা সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।”

শুক্রবার দিনের বিভিন্ন সময় রামপুরা, শান্তিনগর, কাকরাইল, জাতীয় প্রেসক্লাব, বায়তুল মোকাররম, মহাখালী, বিজয় সরণি, গুলশান, খিলক্ষেত এলাকায় চৌকি বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাতে দেখা গেছে সেনা সদস্যদের।

যৌথ বাহিনীর অভিযানের আওতায় পরিচালিত এসব চৌকিতে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা গেছে।
সিলেটে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু

সিলেটে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে যুবকের মৃত্যু



সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছর। নিহতের নাম পরিচয় তাৎক্ষণিক পাওয়া যায়নি।

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুর মোগলাবাজার থানার রয়েল সিটির পাশে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া পারাবত এক্সপ্রেসের ছাদে ছিলেন ওই যুবক। এসময় অসাবধানতাবশত ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেলে ট্রেনের চাকার নিচে কাটা পড়েন তিনি।

সিলেট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস বলেন,  খবর পেয়ে সিলেট পুলিশ ঘটানাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। ময়না তদন্তের জন্য যুবকের লাশ সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, এখনো নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি। 
সিলেট থেকে যাওয়া লন্ডনের ফ্লাইট ফিরে এলো ঢাকায়!

সিলেট থেকে যাওয়া লন্ডনের ফ্লাইট ফিরে এলো ঢাকায়!



সিলেট থেকে উড্ডয়ন করা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের লন্ডনগামী একটি ফ্লাইট যাত্রা বাতিল করেছে। ফ্লাইটটি মাঝপথ থেকে ফিরে এসে অবতরণ করে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

মূলত ফ্লাইটটি যাচ্ছিল লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরেরর উদ্দেশ্যে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় মাঝপথ থেকেই সেটি ঢাকায় ফিরে এসেছে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন কামরুল ইসলাম তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।

কামরুল ইসলাম জানান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-২০১ ফ্লাইটটি আজ শুক্রবার সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। ফ্লাইটটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে অবতরণ করে সকাল ৯টা ৬ মিনিটে। এরপর যাত্রী নিয়ে সকাল ১০টা ৪৬ মিনিটে ফ্লাইটটি লন্ডনের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। কিন্তু হিথ্রো বিমানবন্দরের পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইটটি মাঝপথে ফিরতে বাধ্য হয়। আজ দুপুর পৌনে ২টায় এটি ঢাকায় এসে অবতরণ করেন।

তিনি আরও জানান, ফেরত আসা ওই ফ্লাইটে পাইলট ও কেবিন ক্রুসহ ২৬৭ জন আরোহী রয়েছেন। ঢাকায় অবতরণের পর যাত্রীদের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ব্যস্ততম হিথ্রো বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে শুক্রবার সারাদিন এটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিমানবন্দরে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দেওয়ায় এই বিপর্যয় নেমে আসে। এতে শত শত ফ্লাইট বাতিল করতে হয়। লন্ডনের সময় রাত ১১টা ৫৯ মিনিট অবধি বিমানবন্দরটি বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। 
বিভাজনের পথ বেয়েই আ.লীগ আসবে: তথ্য উপদেষ্টা

বিভাজনের পথ বেয়েই আ.লীগ আসবে: তথ্য উপদেষ্টা


বিভাজনের পথ বেয়েই আওয়ামী লীগ আসবে বলে মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, অভ্যুত্থানের শক্তির মধ্যকার বিরোধ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হোন। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

গুরুতর কয়েকটি বিষয়ে জানতে চেয়ে পোস্টে মাহফুজ আলম লিখেছেন, এস্টাবলিশমেন্ট মাস্টারমাইন্ড বানালো। আবার নিজেরাই মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি’র অন্ধভক্তদের লেলিয়ে দিল। ছাত্রদের মধ্যকার ক্রেডিটবাজির লড়াই কারা শুরু করিয়ে দিল? নেপথ্য শক্তির ন্যারেটিভের পেছনে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট কি করছিল? বামপন্থিদের একাংশকে কারা প্রথমেই অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে আলাদা করে ফেলল? বামপন্থিদের মুজিববাদী অংশ কিভাবে পরিপুষ্ট হলো?

তিনি আরও লিখেন, প্রথম বিতর্ক হলো- সোনার বাংলা নিয়ে। সেখান থেকে কালচারাল ওয়ার শুরু। কখন, কাকে দিয়ে সে খেলা শুরু হলো? হিযবুত গালিটা দেওয়া হলো ছাত্রদের। অথচ ছাত্রদের হিযবুত বলে ন্যারেটিভ বানিয়ে আসল হিযবুতদের পতাকাবাজি করতে হেল্প করেছিল কারা?

এসকেএস টাওয়ারে এস্টাবলিশমেন্টের হাতে এক দশকে গজানো ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারীদের প্রথম মিটিং হলো জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা লিখেন, পরে সারা বাংলাদেশে, জেলায় জেলায়। কারা ইন্ধন জোগাল তাদের। আর কার/কাদের বিরোধিতা করল, এখনও করে যাচ্ছে? ঢাকা শহরের স্কুল কলেজে র‌্যাডিকালাইজেশনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলো কাদের আয়োজনে? নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স) এবং মিম পেজগুলো একের পর এক আক্রমণ করল অভ্যুত্থানের নেতাদের। অভ্যুত্থানের যে নেতারা শাপলা-শাহবাগের বাইনারি ভাঙতে চাইল, নতুন বন্দোবস্ত গড়তে চাইল- তাদের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট, নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স), তৌহিদী জনতা নামধারীদের একসঙ্গে লেলিয়ে দিল কারা? এর বিপরীতে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া কিভাবে ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে বিভাজন শতগুণ বাড়িয়ে দিল?

বামপন্থি-ডানপন্থি বিভাজনের জন্য বিভিন্ন মঞ্চ ও আন্দোলনের পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ল কারা এমন প্রশ্ন করে মাহফুজ আলম লিখেন, সেসব মঞ্চের পেছনে নেপথ্য শক্তি কি করছিল? অর্থ ও জনবলের উৎস কারা ছিল? বামপন্থিদের একাংশ হরেদরে কেন এ সরকারের বিরোধী হয়ে উঠল এবং মুজিববাদীদের ক্রীড়ানকে পরিণত হলো? রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ছাত্রদের নিয়ে টেনশন তৈরি করল কারা? কেন এক্স (সাবেক) কমিশনের এক সদস্য নেপথ্য শক্তির ইন্ধনে সমঝোতা করল? নেপথ্য শক্তিকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া হলো এডমিনে এবং ব্যবসায়ে, প্রকারাস্তরে যা ‘দেশপ্রেমিক’ নেপথ্য শক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে বিভাজন, সন্দেহ ও দূরত্ব তৈরি করল।

ছাত্ররা এবং অন্যান্য দলের কর্মীরা বিভিন্ন অপরাধ করছে না, তা কিন্তু নয় মন্তব্য করে তথ্য উপদেষ্টা লিখেন, জাতীয় শক্তিই বা কেন বারবার এলাইন করতে থাকল এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে? কেন তারা ছাত্র-জনতার আবেগের বিরুদ্ধে যেতে চাইল? আর এ আলাইনমেন্টের সূত্রে জাতীয় শক্তি কেন ছাত্রদের ওপর আক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, ডিসেম্বর অনওয়ার্ড? অলিগার্কদের টাকা কিভাবে ভাগ করা হলো, এস্টাবলিশমেন্ট, ‘বড়’ নেপথ্যশক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে? কিভাবে টিকিয়ে রাখা হলো সামিটসহ অন্যান্য গ্রুপের বিজনেস ইন্টারেস্ট। কিভাবে ছাত্রদের একাংশকে টেনে নেয়া হলো সেসব আর্থিক লেনদেনে। যাতে পরবর্তীতে তাদের ব্লাকমেইল করা যায়? 

তিনি আরও লিখেন, লাকি কেন হঠাৎ সামনে আসল? শাহবাগ-শাপলার দ্বন্দ্ব কেন প্রকট হলো? সব বাহিনীর মোরাল কেন এখনো ভঙ্গুর? মিডিয়াগুলোর ন্যারেটিভ কেন এত এত সাজানো ও সময়োপযোগী হয়? মুজিববাদীরা কিভাবে রিওর্গানাইজড হলো মিডিয়া আর কালচারপাড়ায়?

তদুপরি, কোন কোন এডভাইজারের পক্ষ-বিপক্ষ কখন তৈরি করা হলো? কার কার পদত্যাগ চাওয়া হলো আর কাকে কাকে ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক বানানো হলো? কেনই বা বানানো হলো? উত্তর হিসাবে বিশেষ কারও নাম গুরুত্বপূর্ণ না। আর, সবই অন্যরা করল, আমাদের কোনো দোষ নেই, তাও নয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র হয়েছিল এবং এখনো চলমান! তবু, চলুন বিচার ও সংস্কারের পক্ষে কাজ করি। চলুন, শহিদ আহতদের স্পৃহা ও চৈতন্যের বাংলাদেশ তৈরি করতে আগুয়ান হই। এখনো সময় শেষ হয়নি! সবার জন্য শুধরাবার মতন সময় এখনো আছে! জুলাইয়ের মতো করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও সুযোগ রয়েছে! চলুন, ছাত্ররা এক হোন/হই আবার। আমাদের বিরুদ্ধে, এ প্রজন্মের বিরুদ্ধে, ‘বাচ্চাকাচ্চা’দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এটাই সত্য! আপনারা রুখে দাঁড়ান এবং জবাবদিহি ও সুবিচারের রাষ্ট্র গঠনে আবার ঐক্যবদ্ধ হোন।

একমাত্র ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্যই পারবে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকিয়ে দিতে দাবি করে মাহফুজ আলম লিখেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পুরাতন বন্দোবস্তের সব কলকব্জা বিকল করেই এগোতে হবে। নাহলে কিছুই দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। জুলাই প্রজন্মের একাংশ এস্টাবলিশমেন্টের ফাঁদে পড়েছে, বিভিন্ন সেগমেন্টের ন্যায্য ক্ষোভকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে যাতে এস্টাবলিশমেন্ট অক্ষত থাকে। আর সেটা আছেও বটে! তাই, আমাদের প্রজন্মের সব আবেগকেই আওয়ামী লীগ প্রশ্নে, বিচারের প্রশ্নে, সংস্কারের প্রশ্নে নিবদ্ধ করা এবং এস্টাবলিশমেন্টের পালটা সেটেলমেন্ট গড়ার কাজে লাগানো উচিত। জুলাই প্রজন্ম জিন্দাবাদ! ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্য জিন্দাবাদ। 
গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী পাশে না দাঁড়ালে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হতো: নুর

গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী পাশে না দাঁড়ালে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি হতো: নুর


চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সামরিক বাহিনী যদি জনগণের পাশে এসে না দাঁড়াত তাহলে দেশে একটি গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হতো মন্তব্য করে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক (নুর) বলেছেন, সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিয়ে যারা দল গঠন করেছে, তারাও শেখ হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট দল হতে চায়।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ও গণহত্যার বিচারের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ মন্তব্য করেন তিনি। 

গণঅভ্যুত্থানের পরে সেনাবাহিনীকে কেন জনগণের মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে এমন প্রশ্ন তুলে সাবেক ডাকসু ভিপি বলেন, কিছু বুদ্ধিজীবী কৌশলে গণঅভ্যুত্থানে সেনা কর্মকর্তাদের অবদান অস্বীকার করে বিভাজন তৈরি করতে চায়। এতে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। 

সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি বলেন, ছাত্র সমন্বয়কেরা তদবির করে আওয়ামী লীগের দোসরদের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে যাওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে, আর দোষ চাপাচ্ছে সেনাবাহিনী ও সরকারের ওপর।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও দপ্তর সম্পাদক শাকিল উজ্জামানের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফারুক হাসান, হাসান আল-মামুন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, ছাত্র অধিকারের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সভাপতি আবদুর রহমান প্রমুখ।

সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে অবস্থান কর্মসূচি ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সমাবেশ শেষে গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে একটি গণমিছিলের আয়োজন করা হয়। মিছিলটি পল্টন থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড় ও জাতীয় প্রেসক্লাব প্রদক্ষিণ করে আবার গণ অধিকারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। 
আ.লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে: নাহিদ ইসলাম

আ.লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে: নাহিদ ইসলাম


আওয়ামী লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। খুনিদের বিচারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে হবে। 

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ এখন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিবাদী দল। তাদের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা সরকারের নেই–অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের এমন বক্তব্যের নিন্দা জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগের সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ডসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।

তিনি বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার চলাকালীন সময়েই আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।  এই মাফিয়া গোষ্ঠীকে রাজনীতিতে ফেরানোর যে কোনো চেষ্টাকে প্রতিহত করতে এনসিপি অঙ্গীকারবদ্ধ।

নাহিদ বলেন, আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তে এ দেশে গণহত্যা চালিয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করছে। বিচার অনিষ্পন্ন রেখে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দেওয়ার আলোচনা বা প্রস্তাব এনসিপি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে। আওয়ামী মতাদর্শ বা মার্কার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ ৩৬ জুলাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন, এনসিপি জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের ভিত্তিতে ঘোষিত জুলাই সনদের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ব্যাপারে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব রাজনৈতিক দল ও পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার আহ্বান জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিদ আলম, সিনিয়র সদস্য সচিব ডা. তাসনিন জারা প্রমুখ। 
রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে সেনাবাহিনী: হাসনাত

রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে সেনাবাহিনী: হাসনাত


বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেনাবাহিনী হস্তক্ষেপ করতে চাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শুক্রবার (২১ মার্চ) রাত ৮টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ন টাওয়ারে এনসিপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে তা রাজনীতিবিদরাই নির্ধারণ করবেন।

তিনি বলেন, দল হিসেবে আগে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। তাদের দোষ স্বীকার করতে হবে। তারপর আওয়ামী লীগ নিয়ে অন্য কোন আলোচনা হতে পারে, তার আগে নয়।

একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চাই। খুনিদের বিচারের কার্যক্রম দৃশ্যমান হতে হবে।
 
তিনি বলেন,  আওয়ামী লীগের বিচার ও নিবন্ধন বাতিলে আন্দোলন চলমান থাকবে। আওয়ামী লীগ এখন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিবাদী দল। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় নাগরিক পার্টির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিদ আলম, সিনিয়র সদস্য সচিব ডা. তাসনিন জারাসহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা



থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিমসটেক জোটের শীর্ষ সম্মেলন। এ সম্মেলন ঘিরে জোর আলোচনা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নিয়ে। কিন্তু, সবশেষ প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে বৈঠকটি নিয়ে। এখনও পর্যন্ত এ বৈঠক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি দিল্লি। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) বিকেলে ভারতের রাজধানীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস। 

ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের কথা আপনারা জানতে চাইছেন, সে ব্যাপারে এই মুহূর্তে আমার কাছে শেয়ার করার মতো কোনও আপডেট নেই।

এর আগে, দিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছিল, এপ্রিলের ২ থেকে ৪ তারিখ ব্যাংককে বঙ্গোপসাগরীয় দেশগুলোর জোট বিমসটেকের শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার মধ্যে একটি বৈঠকের আয়োজন করা যায় কিনা, ঢাকার কাছ থেকে তারা সেই প্রস্তাব পেয়েছেন। কিন্তু সেই বৈঠক হবে কিনা, ভারতের পক্ষ থেকে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে আভাস পাওয়া যাচ্ছে, এখনই দুই দেশের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের মধ্যে মুখোমুখি বৈঠক করাটা ঠিক হবে কিনা–তা নিয়ে ভারত সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্টতই দ্বিধা-বিভক্তি বিরাজ করছে।   

গত বছরের সেপ্টেম্বরেও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বৈঠক আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ভারত তাতে সাড়া দেয়নি এবং সেই বৈঠকও হয়নি। দুই নেতার মধ্যে অবশ্য মাঝে টেলিফোনে সরাসরি কথাবার্তা হয়েছে।


গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুতিতে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এখন পর্যন্ত ভারত-বাংলাদেশের শীর্ষ দুই নেতা মুখোমুখি বৈঠক না করলেও একাধিকবার বৈঠকে বসেছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।  নিউইয়র্কের পর দুই দেশের পররাষ্ট্র পর্যায়ে বৈঠক হয়েছে ওমানের রাজধানী মাস্কটেও। এছাড়া, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও গত ডিসেম্বরে ঢাকায় এসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন তার কাউন্টারপার্ট জসীমউদ্দিনের সঙ্গে। অর্থাৎ, দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে যোগাযোগের চ্যানেলগুলো  ঠিকই চালু আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস নিজেও বিবিসির সঙ্গে সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঠিকই আছে, সব ভালোই চলছে। কথাবার্তাও হচ্ছে।
বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা

বৃষ্টিপাত নিয়ে আবহাওয়া অফিসের নতুন বার্তা


সিলেটসহ সাত বিভাগে টানা তিনদিন বৃষ্টির কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দুদিনের বৃষ্টিতে তাপমাত্রা অনেকটা কমেছে। ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা কমায় গরমও অনুভূত হচ্ছে কম। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত দেশজুড়ে বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, শনিবার (২২ মার্চ) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

রোববার (২৩ মার্চ) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

সোমবার (২৪ মার্চ) ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো বা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টি হতে পারে।

বর্ধিত পাঁচ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সম্পর্কে বলা হয়েছে, এ সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা বলেন, পরবর্তী তিনদিন সব বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। এরপর তাপমাত্রা আবার বাড়তে থাকবে।

শুক্রবার (২১ মার্চ) দেশের সর্বোচ্চ ৩৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডুতে। এদিন ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় শুক্রবার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১০ মিলিমিটার। রাজশাহীতে ৭, সিরাজগঞ্জে ৫, পাবনা, বগুড়া, চুয়াডাঙ্গায় ২, নওগাঁ, ময়মনসিংহ ও কুষ্টিয়ায় এক মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এ ছাড়া টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, ফেনী ও যশোরে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রাজশাহীতে দুই দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। দিনভর ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিতে ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী। শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে, যা থেমে থেমে অব্যাহত রয়েছে। বেশিরভাগ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও মাঝে মাঝে তা তীব্র হচ্ছে। আগের দিন দুপুরের পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি থাকলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। 
আ.লীগ পুনর্গঠন নিয়ে পিনাকীর বক্তব্য, যা বললেন সোহেল তাজ

আ.লীগ পুনর্গঠন নিয়ে পিনাকীর বক্তব্য, যা বললেন সোহেল তাজ


আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন নিয়ে যখন আলোচনা চারদিকে, ঠিক তখনই এ নিয়ে লেখক, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, আগামীতে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হলে সেখানে সভাপতি করা হবে সাবের হোসেন চৌধুরীকে আর সম্পাদক হবেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। বিষয়টি নজরে এলে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন  তাজপুত্র। 

শুক্রবার (২১ মার্চ) দুপুরে পিনাকীর সেই স্ট্যাটাস শেয়ার দিয়ে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান।

পিনাকীর বক্তব্যকে সরাসরি খারিজ করে দিয়ে সোহেল তাজ লিখেছেন- ‘ভুয়া- Fake news!’ 

পরে বিষয়টি নিয়ে দেশের একটি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন সাবেক এই স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নোংরা ও পচা রাজনীতিতে আমার আগ্রহ নেই। 

এ সময় তাকে প্রশ্ন করা হয় আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন হলে নেতৃত্ব দেবেন কি না—জবাবে সোহেল তাজ বলেন, আওয়ামী লীগ পুনর্গঠন নিয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনো আলোচনা হয়নি। আমি এই ব্যাপারে কিছুই জানি না।


তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতা আর জনগণের নীতি-আদর্শভিত্তিক দল ছিল আওয়ামী লীগ। বাকশালে সেই আওয়ামী লীগ বিলুপ্ত হয়।

তাজপুত্র বলেন, আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠন করতে হলে একাত্তরের আগের আদর্শে ফিরে যেতে হবে।

নতুন করে নতুন দল নিয়ে রাজনীতিতে ফিরে আসবেন কি না জানতে চাইলে এ সময় সোহেল তাজ সরাসরি কোনো উত্তর দেননি। 

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মই দেশ গড়বে। তারাই হবে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক-বাহক। নতুন প্রজন্ম যদি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পিওর হার্ট নিয়ে দেশ গড়তে এগিয়ে আসে, তবে তাদের পাশে থাকব।

এর আগে, বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে পিনাকী ভট্টাচার্য বলেন, ‘সাবের হোসেন চৌধুরী সভাপতি আর বডি সোহেলকে সাধারণ সম্পাদক এইভাবে আওয়ামী লীগ পুনর্গঠিত হবে। এই পুনর্গঠিত আওয়ামী লীগ নির্বাচনে যাবে। এইটাই বিএনপি, ভারত ও ওয়াকারের যৌথ সিদ্ধান্ত। এতে ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ব্রিটেনের সমর্থন আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কারণেই সাবের হোসেন চৌধুরীকে জেলে রাখা যায় নাই। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিপ্লবীদের দেশ ছাড়তে হয়েছিল। তারা বিভক্ত হতে হতে শক্তিহীন হয়ে পড়ে। যারা ১৯৭৫ এর বেনিফিসিয়ারি তারা বিপ্লবীদের বাঁচায় নাই। একাংশ রাজনৈতিক দল তৈরি করলো ফ্রিডম পার্টি। আরেক অংশ খন্দকার মুশতাককে মাঝে রেখে দল গড়তে চাইলো। পারলো না। মুশতাককে প্লেট চুরির মামলায় জেলে দেওয়া হলো। হাসিনা ফিরে এলো।’

এই অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট বলেন, ‘২০২৪ সালে আবার ১৯৭৫ এর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। সেই একই ব্যবস্থা সেই একই কাঠামো অবিকৃত রেখে রাষ্ট্র চলবে। লুটপাট চলবে, ভারতের কর্তৃত্ব চলবে। ২৪-এর নায়কেরা ভুল আর বিভেদের পঙ্কিল আবর্তে ডুবে যাবে। এখন শুরু হয়েছে একজনের বিরুদ্ধে আরেকজনকে লড়িয়ে দেওয়া।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের ক্ষমতা এখন সীমিত। ব্যাপকভাবে চলছে ছাত্রদের চরিত্রহনন। ছাত্রদের উপলব্ধি হওয়া দরকার ছিল তারা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ লিখে ফেলেছিল ৫ থেকে ৮ আগস্টের মধ্যে। তারা যাদের ওপরে নির্ভর করেছিল। যাদের মিষ্টি কথায় ভুলেছিল, তারাই এখন চোখ উলটে দিয়েছে। আরও একবার আরেক সম্ভাবনা হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার মুখোমুখি হয়েছে।’

এই ব্লগার আরও বলেন, ‘আপনারা জানেন, আমি হাল ছাড়ি না। যতদিন বেঁচে আছি, বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দেব না। ১৯৭৫-এর পুনরাবৃত্তি হতে দেব না। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বা ভারতীয় আধিপত্যবাদ ফিরবে না; যতই তার পেছনে ওয়াকার থাকুক, সিভিল মিলিটারি বুরোক্রেসি থাকুক, প্রথম আলো আর ডেইলি স্টার থাকুক আর বিএনপি থাকুক।’ 

সবশেষে পিনাকী বলেন, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ।’

Thursday, 20 March 2025

অসহায়দের মাঝে শিরিন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

অসহায়দের মাঝে শিরিন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ


পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে শিরিন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) বাদ যোহর গোলাপগঞ্জের চন্দরপুর গ্রামের অসচ্ছল ২০০টি পরিবারের মাঝে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়।

খাদ্য সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে ইউপি সদস্য সালমান কাদের দিপুর সঞ্চালনায় এবং শিরিন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম দুদু-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুধবারীবাজার ইউপি চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন। 

বিশেষ অতিথি ছিলেন সমাজসেবী নুরুল হক, মানিক মিয়া, সাবেক ইউপি সদস্য মাওলানা সাব্বির আহমদ, ফয়সল আহমদ, শাহজাহান আহমেদ প্রমুখ।

এসময় বক্তারা শিরিন মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রতি বছর রমজান মাসে এ ট্রাস্ট অসহায়দের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসে। এছাড়া এ ট্রাস্ট বিভিন্ন সময় শীতার্তদের শীতবস্ত্র, অসহায়দের খাদ্য সামগ্রী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহে অনুদান-সহ মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করে আসছে। বক্তারা এ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্ট ইউকের সাবেক সভাপতি ফজলুল হককে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং আগামীতেও অসহায়দের সাহায্যে হাত প্রসারিত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এসময় ফজলুল হকের মরহুমা মেয়ে শিরিন হকের বিদায়ী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে পরিবারবর্গের প্রতিও মঙ্গল কামনা করেন বক্তারা।

Tuesday, 18 March 2025

বিয়ানীবাজারে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে যুবকের আত্মহত্যা

বিয়ানীবাজারে নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে যুবকের আত্মহত্যা



বিয়ানীবাজারে গায়ে আগুন লাগিয়ে আফজল হোসেন (২৪) নামের এক যুবক আত্মহত্যা করেছে। তিনি উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজনা গ্রামের ছরফর আলীর ছেলে। শনিবার ভোরে ঢাকায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের স্বজনরা জানান, নিহত যুবক মানষিক রোগী। ৩-৪ বছর পুর্বেও তিনি আরেকবার আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। শুক্রবার দিনের কোন একসময় অজ্ঞাত দোকান থেকে পেট্রোল কিনে নিয়ে লুকিয়ে রাখেন আফজল। রাতের কোন এক সময় নিজ গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেন তিনি। পরিবারের লোকজন তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। তবে রাস্তায় তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। ৫ ভাইবোনের মধ্যে আফজল ছিলেন ৩য়।

বিয়ানীবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফ উজ্জামান বলেন, বিষয়টির খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। 
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির অভিযোগ

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির অভিযোগ



ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের হবিগঞ্জ বাহুবল থানার রশিদপুর গ্যাসফিল্ডের সামনে গাছ ফেলে কয়েকটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

রোববার (১৬মার্চ) দিবাগত রাত ১১টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। এসময় সড়কের দুই পাশের  যানবাহনগুলো আটকে ডাকাতি করে ডাকাতরা নিরাপদে চলে যায়।

শ্রীমঙ্গলের বাস যাত্রী শেখ আল নোমান জানান, আমি যে গাড়িতে ঢাকা থেকে আসছিলাম তার সামনের তিনটি গাড়িতে ডাকাতি শেষে যখন আমাদের গাড়িতে আসবে সেই সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনীর লোক চলে আসাতে আমাদের গাড়িতে ডাকাতি হয়নি।

মো.জামাল নামে এক যাত্রী জানান, রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের সামনে ভয়াবহ ডাকাতি হচ্ছে। এ সময় আমরা সড়কে জ্যামে আটকা পড়ি। পুলিশকে কল দিয়েছি, পুলিশ আসছি আসছি বলেছে কিন্তু পুলিশ সময় মতো আর আসে নাই।

মনতোষ নামে শ্রীমঙ্গলের এক গাড়ি চালক চিটাগাংয়ের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন রশিদপুর গ্যাস ফিল্ডের সামেনে রাত ১১টা ২০ মিনিটে পৌঁছার পর দেখেন গাছ ফেলে ডাকাতি হচ্ছে, এনা বাস, কভার্ড ভ্যান, ড্রাম ট্রাকে ডাকাতি হচ্ছিল। প্রায় একঘণ্টা পর পুলিশ ঘটনা স্থলে যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

তবে সাতগাঁও হাইওয়ে থানা পুলিশের পরির্দশক সাইফুর রহমান এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে আসতে আমাদের পাঁচ সাত মিনিট লেগেছে। তার দাবি রাত ১১টায় এঘটনা ঘটে। কোনো গাড়িতেই ডাকাতরা হাত দিতে পারেনি। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়। 

অল্প সময়ের ভেতরে সড়কে ফেলা গাছ কেটে সরিয়ে যান চলাচলের উপযোগী করে দেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। 
পানসী ও পাঁচ ভাই রেষ্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা

পানসী ও পাঁচ ভাই রেষ্টুরেন্টকে লাখ টাকা জরিমানা


সিলেট নগরীর দুই রেস্টুরেন্টকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। জরিমানা করা হয় ১ লাখ টাকা।


সোমবার (১৭মার্চ) বিকেলে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহার নেততৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।


দুটি রেস্টুরেন্টের  মধ্যে নগরীর জিন্দাবাজারের পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্টকে স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুত না করার অভিযোগে ও পানসি রেস্টুরেন্টকে বাসি খাবার সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রস্তুতির অভিযোগে জরিমানা করা হয়। দুটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা করে আদায় করা হয় ১ লাখ টাকা।


অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেটের সহকারি পরিচালক দেবানন্দ সিনহা জানান, জরিমানা আদায়ের পাশপাশি সতর্ক করা হয়েছে রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের। জনস্বার্থ বিবেচনায় এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোথাও ভোক্তা অধিকার ক্ষুন্ন, গ্রাহক হয়রানি-জুলুমের ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক বিষয়টি সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরকে জানানোর অনুরোধ জানান তিনি।
বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্নঃ মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান

বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্নঃ মার্কিন গোয়েন্দাপ্রধান



যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাপ্রধান তুলসি গ্যাবার্ড বলেছেন, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে দেশটি উদ্বিগ্ন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন বিশ্বজুড়ে ‘ইসলামি সন্ত্রাসবাদকে’ পরাজিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সোমবার  (১৭ মার্চ) সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড বলেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নির্যাতন, হত্যা ও নিপীড়নের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র সরকার, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের জন্য উদ্বেগের বড় কারণ।

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভা কথা বলতে শুরু করেছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদী উপাদানের উত্থান প্রসঙ্গে তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, বাংলাদেশের সরকার এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নতুন মন্ত্রিসভার মধ্যে আলোচনা কেবল শুরু হচ্ছে, তবে এখনও উদ্বেগের অবসান হয়নি।


দিল্লিতে ‘ইসলামিক খিলাফতের’ আদর্শ নিয়েও কথা বলেছেন তুলসি গ্যাবার্ড। উগ্রপন্থি উপাদান ও সন্ত্রাসীগোষ্ঠীগুলো বৈশ্বিকভাবে কেমন করে এ ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরির লক্ষ্যে কাজ করে, তা নিয়েও কথা বলেছেন তিনি৷ 

তুলসী গ্যাবার্ড বলেন, ইসলামপন্থি সন্ত্রাসীদের হুমকি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বৈশ্বিক তৎপরতা একই আদর্শ ও লক্ষ্য দ্বারা পরিচালিত হয়৷ সেই আদর্শ ও লক্ষ্য হলো, ইসলামপন্থি খিলাফতের মাধ্যমে শাসন করা। এতে অবশ্যই তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য ছাড়া অন্য যেকোনো ধর্মের মানুষের ওপর প্রভাব পড়ে। তারা এটা সন্ত্রাস ও অন্যান্য সহিংস পন্থায় বাস্তবায়নের পথ বেছে নেয়।

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের আদর্শকে শনাক্ত ও পরাজিত করা এবং তিনি যেটাকে ‘কট্টর ইসলামপন্থি সন্ত্রাসবাদ’ বলেন, সেটিকে নির্মূলের বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।


মার্কিন গোয়েন্দা প্রধান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসলামি সন্ত্রাসবাদের পেছনে যে আদর্শ কাজ করে তা চিহ্নিত করতে এবং এই আদর্শ ও তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রমকে পরাজিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Sunday, 16 March 2025

সিলেটে রমজানেও থেমে নেই অসামাজিকতা : ৬ নারী-পুরুষ আটক

সিলেটে রমজানেও থেমে নেই অসামাজিকতা : ৬ নারী-পুরুষ আটক



পবিত্র রমজানেও থেমে নেই সিলেটে অসামাজিক কার্যকলাপ। বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের পাশাপাশি ফ্লাটেও চলছে এসব অনৈতিক কর্মকান্ড। এসব অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধে অভিযান চালাচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।


সিলেট নগরীর মেন্দিবাগ পয়েন্টের গার্ডেন টাওয়ারের ১২তম তলার ৪১২৪নং ফ্ল্যাটে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের খবর পেয়ে অভিযান চালায় এসএমপি'র সোবহানীঘাট পুলিশ ফাঁড়ীর একটি টিম।


অভিযানে পাঁচ নারী ও এক পুরুষকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন, শামীম আহমদ (৩৪), আয়েশা আক্তার (৪০), সুপ্রিয়া চৌধুরী (২২), জারা আহমদ (১৮), তানিশা বেগম (২৩), জাহানারা বেগম (৪০)।


বিষয়টি রোববার রাতে নিশ্চিত করেছেন এসএমপি'র মিডিয়া কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 


তিনি জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে এসএমপি এ্যাক্টের ৭৭ ধারা মোতাবেক বিজ্ঞ আদালতে প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে। 
রমজানের মাহাত্ম্য নষ্ট করে ইফতারি নামক কুপ্রথা

রমজানের মাহাত্ম্য নষ্ট করে ইফতারি নামক কুপ্রথা



শুরুটা করছি একটি ঘটনা দিয়ে-

রমজান মাসের ঠিক চার মাস পূর্বে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন শামীম আহমদ ও হেলেনা বেগম। বিয়ের পর প্রথম রমজান মাসে ইফতারি আসবে সেই আশায় থাকেন বরের পিত্রালয়ের লোকজন। সিলেটের ঐতিহ্য হিসেবে যথারীতি হেলেনার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে ইফতার পাঠানোও হয়। কিন্তু সেই ইফতার সামগ্রী শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মনমতো হয়নি। আর সেটা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নানান কথা শুনতে হয় হেলেনাকে। এরই জেরে নিজ ঘরে ফ্যানের সঙ্গে রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন হেলেনা। ঘটনাটি সিলেটের জৈন্তাপুরের। 

পুরো দেশেব্যাপী এরকম ৮/১০টি ঘটনা প্রতি রমাজনেই ঘটে থাকে। এরকম আত্মহত্যার ঘটনা এমনকি ডিভোর্স, অত্যাচার-নির্যাতনে কত বিবাহিতার সংসার তছনছ হয়ে যায় তার ইয়ত্তা নেই।  ইফতারি, আম-কাঠালী, বরের আত্মীয়স্বজনদের কাপড়চোপড় উপহার সামগ্রী-সহ হরেক রকমের কুপ্রথা যেন আমাদের সভ্য সমাজের মানুষজন অসভ্যভাবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন। এসব রেওয়াজ কতশত পরিবারের হাহাকার বয়ে আনে তা আমরা ক'জনই জানি? সামাজিক রীতির নামে সিজনালভাবে আমরা আত্মহত্যা, ডিভোর্স আর পারিবারিক কলহের জন্ম দিচ্ছি সেদিকে আমাদের কারো ভ্রুক্ষেপই নেই!

অথচ, রমজান মাস সিয়াম সাধনার মাস। নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ইত্যাদি ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার নৈকট্যলাভের সুযোগ মেলে এ মাসে। কিন্তু পবিত্র এই মাসে ইফতারি নামক নিন্দিত কাজ ক্ষুণ্ণ করছে রমজানের মাহাত্ম্য। ইফতারি প্রথা দরিদ্রদের জন্যে এক মহাআতঙ্কের নাম ও ধনবানদের জন্যে এক বিলাসী প্রথা।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই প্রথার প্রচলন রয়েছে। আর এটা এমনভাবে মহামারী আকারে ছড়িয়ে গেছে যে, শ্বশুরবাড়ি থেকে ইফতারি আসতেই হবে। অনেক সময় দরিদ্র বাবা মেয়ের সুখের জন্যে নিজের কষ্ট লুকিয়ে রেখে হাসিমুখে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি ইফতার পাঠায়। অন্যদিকে ইফতার প্রেরণেই যে মেয়ের নিষ্কৃতি মিলবে- এমন নয়। বাড়ির অন্য বউদের শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো ইফতারের সঙ্গে তুলনাও করা হয়। যার শ্বশুরবাড়ি থেকে যত বেশি ইফতার আসে তার ততো সুনাম। তেমনি যে মেয়ের বাবার সে সক্ষমতা কম তিনি ইফতার দিয়ে খুশি করতে না পারলে অনেক ক্ষেত্রে কথা শুনতে হয় মেয়েকে।
হয়তো মেয়েটি জানে তার বাবার অবস্থা তবুও শ্বশুরবাড়িতে নিজের সম্মানজনক অবস্থান ধরে রাখতে অনেক সময় ভেতরে চাপা কষ্ট নিয়েই বাবাকে অনুরোধ করে। মেয়ের আবদার ফেলতে পারেন না বাবা। যেভাবেই হোক টাকা সংগ্রহ করেন। সামাজিকতার এই নিয়মের চাহিদা মেটাতে কেউ সুদে টাকা নেন, কেউ গরু বিক্রি করেন কেউবা নিজের চিকিৎসার টাকা দিয়ে ইফতার সামগ্রী কিনে মেয়ের বাড়িতে পাঠান।

পক্ষান্তরে বিত্তশালী পরিবারগুলোতে চলে ইফতার প্রেরণের প্রতিযোগিতা। কে কতো বেশি ইফতার পাঠালো, কতো খরচ করলো- এ জাতীয় হিসাব-নিকাশে চলে যায় রমজান মাস।

তবে এই প্রথার বিরুদ্ধে সোচ্চার বর্তমান প্রজন্ম। অনেকেই এ কুপ্রথা ভেঙ্গে দিতে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। আমি নিজেও এই প্রথার ঘোর বিরোধী। আমার বিয়ের পর এবারের রমজানই প্রথম রমজান মাস। সে উপলক্ষে আমার শ্বশুর বাড়ি থেকে ইফতারি আসবে এমন প্রস্তাবনা শুনার সাথে সাথেই আমি তা শক্তভাবে বারণ করি। সবাইকে বুঝিয়ে বলি এসব কুপ্রথা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসা উচিৎ। কিন্তু শশুড়বাড়ির লোকজন সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যাহার করতে মোটেও রাজি নন। কিন্তু আমার অনড় অবস্থান এবং বিস্তর আলোচনার পর উনারাও নিজেদের সিদ্ধান্ত বদল করেন। 

উপরোক্ত আলোচনা থেকে একটি বিষয় বেশ পরিষ্কার, আর তা হচ্ছে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে এসব কুপ্রথা আমাদের সমাজে বেশ শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে। আমার শ্বশুরালয়ের সকলেই সমাজ সচেতন মানুষ। অথচ এই কুপ্রথাকে উনারাও সহজে বর্জন করার পক্ষে নয়। তার একমাত্র কারণ আমাদের সমাজের দৃষ্টিকোণ। আমার ঘরে ইফতারি না আসলে হয়তো উনাদের মেয়ের সম্মান কমে যাবে, অথবা আশেপাশের অনেকের ইফতারি আসবে আমার ঘরে না আসলে তা বেমানান দেখাবে এমন চিন্তা প্রত্যেক শ্বশুরালয়ের মানুষজনের মনে বিচরণ করে। বাস্তবে ঘটেও তা। সুতরাং ইফতারি প্রথা বর্জন করতে হলে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। 

আমি এব্যাপারে দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। কে কি মনে করলো তাতে আমার ভ্রুক্ষেপ নেই। ইফতারি না আসলে যে গৃহকর্ত্রীর সম্মান কমে যাবে কিংবা তা মানদণ্ডে বিচার করা হবে তার পক্ষে আমি মোটেও নই। প্রসঙ্গত বলতে হয় যে, শ্বশুরালয় থেকে চাইলেই ৫০০ মানুষের ইফতারি আসবে এমন সামর্থ্যও উনাদের রয়েছে, মাশাআল্লাহ। কিন্তু চাইলেই ইফতারি পাওয়া যাবে তবে সমাজ থেকে ব্যাধি দূর করা চাইলেই সম্ভব নয়। তাই আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে এসব ব্যাপারে এখনই সোচ্চার না হই তবে তা দূর করতে আরোও এক মহাকাল পথ পাড়ি দিতে হবে।

সমাজে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির কারণেই এসব কুপ্রথা সামাজিক ব্যাধি হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে ফেলেছে। তাই আসুন সবাই এসব কুদৃষ্টিভঙ্গি ও ইফতারি, আমকাঠালী-সহ সকল কুপ্রথার ব্যাপারে সোচ্চার হই। মনে রাখবেন, এসব কুপ্রথাকে যারা উৎসাহিত করেন তারা সকলেই আত্মহননকারী, বিবাহ বিচ্ছেদ ও নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর জন্য সমান অপরাধী। তাই এসব কুপ্রথাকে উৎসাহিকরণ নয়, দৃঢ়তার সহিত বর্জন করুন। কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় বলতে হয়-

আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে?
তোমার ছেলে উঠলে গো মা রাত পোহাবে তবে!'

বর্তমান প্রজন্মের সকলেই সচেতন, তাই এ প্রজন্ম জেগে উঠলেই রাত পোহাবে তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

সালমান কাদের দিপু
সম্পাদক ও প্রকাশক
কুশিয়ারা নিউজ।